মদ খেয়ে ও পৃথিবীর ২৩ টি ভাষা রপ্ত করেছিলেন জাত পাতের উর্দ্ধে থাকাসৈয়দ মুজতবা আলী
কোথাও একবার পড়েছিলাম, সৈয়দ মুজতবা আলীকে কোনো এক আসরে মদ খেতে দেখে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন—আপনি যে মদ খাচ্ছেন, এটা দেখে তরুণ সমাজ কী শিখবে?
উত্তরে সৈয়দ মুজতবা আলী মদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলেছিলেন, 'তোমার তরুণ সমাজকে বলে দিও—মদ খাওয়ার আগে আমি পৃথিবীর ২৩ টি ভাষা রপ্ত করেছি।'
উনাকে নিয়ে আরেক মজার ঘটনা আছে!
সৈয়দ মুজতবা আলী তখন বেশ বিখ্যাত লেখক। প্রতিদিনই তাঁর দর্শন লাভ করতে ভক্তরা বাসায় এসে হাজির হয়। একদিন এক ভক্ত মুজতবা আলীর কাছে জানতে চাইলেন, তিনি কোন বই কী অবস্থায় লিখেছেন। মুজতবা আলী যতই এড়িয়ে যেতে চান, ততই তিনি নাছোড়বান্দা। শেষে মুজতবা আলী সরাসরি উত্তর না দিয়ে বললেন, 'দেখো, সুইস মনস্তত্ত্ববিদ কার্ল গুসতাফ ইয়ুং একদা তাঁর ডায়েরিতে লিখে রেখেছিলেন, কিছু লোক আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি কীভাবে লিখি। এ ব্যাপারে আমাকে একটা কথা বলতেই হয়, কেউ চাইলে তাকে আমরা আমাদের সন্তানগুলো দেখাতে পারি, কিন্তু সন্তানগুলো উৎপাদনের পদ্ধতি দেখাতে পারি না।'
এমনই হাস্যরসে পরিপূর্ণ ছিল এই মানুষটি।
আরো একটি কথা প্রচলিত আছে: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে গেছেন সৈয়দ মুজতবা আলী। সাধ জগন্নাথ দর্শন করবেন। পুরুত জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি বাবা? উত্তর দিলেন- সৈয়দ মুজতবা আলী।
উত্তর এলো- বিধর্মীর প্রবেশ নিষেধ।
মনে মনে মুজতবা বললেন, জগন্নাথ যদি সত্যিই ভগবান হন, তাহলে তাঁর কাছে পুরুতও যা, আমিও তাই।
তিনি সমুদ্র তীরে গিয়ে মাথা মুন্ডন করে তাতে টিকি রাখলেন। পৈতে ধারণ করলেন। গেরুয়া পরলেন। কপালে তিলক কাটলেন। হাতে কমন্ডুল ও পায়ে খড়ম। মুজতবার গভীর সংস্কৃত জ্ঞান ও স্পষ্ট সংস্কৃত উচ্চারণ। গৌরবর্ণ, দীর্ঘদেহী টিকলো নাকের মুজতবা ঘন্টা দুয়েক বাদে, ঐ পোষাকে যখন সংস্কৃত শ্লোক আওড়াতে আওড়াতে পুরীর মন্দিরের সিঁড়ি দিয়ে উঠছিলেন, পুরুতরা ভাবলে, হিমালয় থেকে নিশ্চয়ই কোন মহাসাধক এসেছেন। তারা প্রায় পাঁজকোলা করে মুজতবাকে জগন্নাথের সামনে নিয়ে গেল।
মুজতবা লিখেছেন, "আমার গায়ে চিমটি কেটে পুরুতরা যদি বুঝতে পারতো, আমি বামুন, কায়েত না মোচলমান, তাহলে বুঝতুম জাত-পাত- ধর্মের একটা মানে আছে। অদৃশ্য এই বস্তুটি নিয়ে আমাদের কত হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি।"
তাঁর লেখা 'দেশে বিদেশে' পড়েছি পাঁচ পাঁচবার! কাবুল-কান্দাহারে হারিয়েছি প্রতিবার। ভ্রমণ কাহিনী কতটা আনন্দদায়ক হতে পারে তা এ বই না পড়লে বুঝতে পারতাম না।
কোন মন্তব্য নেই