Header Ads

শতবর্ষ আগে বাঘের উৎপাতে পুরোহিত কালীবাড়ি তে পুজো করতে ভয় পেতেন

অমল গুপ্ত ,গুয়াহাটি :৩১ মার্চ : শতবর্ষ আগে  লাম ডিং কালীবাড়িতে বাঘের ভয়ে পুরোহিত পুজো করতে যেতে পারতেন না।আজ চারদিকে নিয়ন আলোর শুভ্র চমক   বাঘের ভয় নয় ডিজের তান্ডব  ,মানুষের উৎপাত  ।এই আলোতে সোনালী অতীত খুঁড়ে মুক্ত তুলে আনার  প্রয়াস করেছি।   তবে  শহরের  প্রয়াত কবি শিব প্রসাদ লোধের মত "ঈশ্বরের সন্ধান "করিনি  মানবতার সন্ধানে কলম ধরেছি। জলহীন শহরে প্রদীপ সেনগুপ্ত জলের আকুতি  করে লিখেছেন "উদগ্রীব হাওয়া খাঁজে জলাশয়"    । বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামী ঋষি অরবিন্দর এক প্রতিমূর্তি গড়ে আবর্জনায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিত্যক্ত মূর্তি কে তুলে এনে সম্মানের সঙ্গে বসিয়েছিল  লিটল স্টার একা ডেমি  ,মূর্তি উন্মোচন করতে এসে  কৃষি মন্ত্রী নীলমণি সেন ডেকা শর্ত দিলেন বাঙালি পোশাকে বাঙালি খাবার খেয়ে    বাংলা ভাষণ দিয়ে মূর্তি উন্মোচন করবেন। সেই শর্ত মেনে নতুন ধুতি পাঞ্জাবি কেনা হল। তিনি এলেন মন জয় করলো। এই প্রসঙ্গে  মনে  এল বিধান সভায়  এজিপি  মন্ত্রীরা যখন " বাঙালিদের  রাস্তা ঘাটে জন্ম হয়" বলে  তীব্র আক্রমণ  করলে কড়া জবাব দেন লাম ডিংয়ের  বিধায়ক তথা বিধানসভার স্পিকার দেবেশ চক্রবর্তী  পরদিন  আনকোরা নুতন ধুতি পাঞ্জাবি পড়ে  বিধানসভায় এজিপি কে পাল্টা কড়া জবাবে কুপোকাত করেন।   সেখান কার বৌদ্ধ মন্দিরে আমাদের নিয়মিত আড্ডা ছিল।ভান্তেজি মোমবাতি জ্বালিয়ে অপেক্ষা করতেন  মোমবাতি নেভার আগে পর্যন্ত আমরা সেখানে পৌঁছিয়ে যেতাম । কোন আকর্ষন  বুজতাম না।  একসময় মাস্তান রাজ  খুন জখম শুরু করে। পুলিশ পাহারায় এসে রিপোর্টিং করে গেছি। বিধানসভায় এই প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে স্পিকার অধিকার ভঙ্গের অভিযোগ দায়ের করেন। বহুদিন বাদে আমার সঙ্গে হাত মেলান দেবেশ বাবু। আমার বনে "বনান্তরে "গ্রন্থ  উন্মোচন করার জন্যে রাজ্যপাল লোক নাথ মিশ্র কে আমন্ত্রণ   জানান। চাকরি ছেড়ে বেকার জীবন।দুবেলা খাবার নেই। রেলের এই ক্যান্টিন  তিনটাকা  তে অল্প ভাত ডাল  আর  অনুবীক্ষণ যন্ত্রে ও দেখা যাবে না এক টুকরো মাছ দিত। বেকার জীবন স্বপন দাসদের সঙ্গে হোজায় গিয়ে স্টেশন রোড এক হোটেলে দু টাকাতে  মাত্র এক  হাত ভাত ডাল আর আলু ভাজা দিত। বিনা পয়সায় ট্রেন সফর ছিল একবার   টিটি ধরে  অপমান করে বলে "লজ্জা লাগে না আপনারা আবার মানুষের জন্যে লিখবেন?" অনাহারে থাকতে হত ডাক্তার অর্ধেন্দু কুমার দে বলেন চল "অমল আমার গুরাহাটিতে এক বন্ধু আছে তোমার চাকরি  করে দেব।' সেই প্রথম গুয়াহাটি শহর বেরুবাড়ী তে এক বাঁশ টিনের বিশাল ঝুপড়ি  ভিতরে বসে আছেন লাল টুকটুকে চেহারার এক  ভদ্র লোক। অর্ধেন্দু দা জানান ইনি বিজয় কৃষ্ণ নাথ  পরিচয় পর্বের পর বাঙাল ভাষায় জিজ্ঞাসা করেন।বাড়ি কই ,লেখাপড়া কতদূর  বললাম  । পরের প্রশ্ন খবরের কাগজ   পড় কিনা? জানালাম ।বলতে পারবে আজকের বড় আর্ন্তজাতিক খবর। জবাব জানলাম পারবো। আজ আমেরিকা  কেনিয়া আক্রমণ করেছে। লিখতে পারবে  জবাব দিলাম পারবো। কলিং বেল বাজিয়ে একজনকে ডাকলেন দৈনিক  বাংলা jugssankh  কর্ণধার  বিজয় কৃষ্ণ নাথ  ।একটা কাগজ দিয়ে বলেন ভিতরে গিয়ে লিখে  আনো।পুরোনো ভাঙ্গা চোরা চেয়ার টেবিল  অপরিষ্কার ঘরে বেঞ্চিতে বসে লিখলাম । আমি কলেজ বামপন্থী রাজনীতি করতাম আমেরিকা  সাম্রাজ্যবাদ ইত্যাদি কথা  জানা ছিল। সেই লাল টুকটুকে ভদ্র লোকের হাতে জমা দিলাম। এক  জা মা কাপড়ে এসেছি।রাতে সেই ভাঙ্গা বেঞ্চিতে  শুলাম  পাশেই ঘট ঘট করে  ছাপার মেশিন চলছিল। ভরে উঠে কাগজ পড়ে অবাক ।আমার লেখাটি সম্পাদকীয় হিসাবে ছাপা হয়েছে। "সাম্রাজ্যে বাদ আমেরিকার কেনিয়া আক্রমণ ।" আমার জীবনের রেড লেটার ডে। জীবনে প্রথম সম্পাদকীয়। সেই পাতাটি আজও যত্ন করে রেখে দিয়েছি।  সেই ভদ্রলোকের এক লাল টুকটুকে ছোট্ট গাড়ি ছিল। গুয়াহাটি শহরে এক মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম বন্ধু অমুকে নিয়ে।হঠাৎ লাল গাড়িটি থেমে আমাদের তুলে নিলেন সেই জীবনে দামী গাড়ি    তে উঠা।  জীবনে শিয়াল ডাক জোনাকি  জলা    দিনের অভিজ্ঞতা   অভাব  দারিদ্রতা আমার চলার  পথে বাধা হয়ে দাড়ায় না।বরঞ্চ  সততা মূল্যবোধ  অনুশীলন আমার সফলতার  কিনারে পৌঁছিয়ে  দিয়েছে। আমি ঈশ্বরের সন্ধান না পেলেও মানবতা   ভাললাগা ভালবাসার  খোঁজ পেয়েছি।
  (আমার লেখা পরিবেশ বিষয়ক গ্রন্থ" জল জঙ্গলের আত্ম কথা "   প্রধান সম্পাদক প্রধান বিজয় কৃষ্ণ  নাথ এ হাতে তলে দিলাম)









 




কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.