পশ্চিমবঙ্গ,ত্রিপুর,া অসম, ঝাড়খণ্ড মাতৃ ভাষা দিবস পালিত হয়
নয়া ঠাহর ,কোলকাতা সংবাদদাতা:
মহান ২১শে ফেব্রুয়ারী, বাংলা ভাষা শহীদ দিবস তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড,অসম জুড়ে পালন করলো ‘আমরা বাঙালী’ সংগঠন।
এদিন বিকেলে কলকাতার শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে ‘আমরা বাঙালী’ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজিত একুশের বাংলা ভাষা শহীদ দিবস স্মরণসভায় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস বলেন, ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের (অধুনা বাংলাদেশ) বাঙালীদের ওপর জোর করে ঊর্দু ভাষা চাপানো ও ঊর্দু সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দল-ধর্মমতের বেড়াজাল ছিড়ে সকল বাঙালী ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করেছিল। ঊর্দু সাম্রাজ্যবাদী পাক সেনাদের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পরে সালাম, বরকত, রফিক,শফিউর, জব্বারের নিথর দেহ। মাতৃভাষা বাংলা ভাষার সন্মান রক্ষার্থে শহীদ হলেন তাঁরা, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন। বীর আত্মত্যাগী বাংলা ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযোগ্য সন্মান প্রদর্শন করে ভারতবর্ষের বাঙালী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো পশ্চিমবঙ্গ,অসম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড জুড়ে ‘আমরা বাঙালী’ সংগঠন একুশে ফেব্রুয়ারী বাংলা ভাষা শহীদ দিবস পালন করে। এছাড়াও স্বাধীন ভারতে ১৯৬১সালের ১৯শে’ মে অসমের শিলচরের অমর একাদশ বাংলা ভাষা শহীদদের আমরা স্মরণ করে নিয়েছি। পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য এভাবে মৃত্যু
বরণের ঘটনা নজিরবিহীন, বাঙালীই পেরেছে।
আজকের দিনেও এই একুশে ফেব্রুয়ারী আবার আপামর বাঙালীকে ‘আমরা বাঙালী’—র আহ্বান, এগিয়ে আসুন, জাগুন বাঙালী সকল। যে বাঙালী জাতির রক্তে ভারত ব্রিটিশ মুক্ত হলো, সেই ভারতে এমনকি নিজের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও ঐতিহাসিক ভাবে বৃহত্তর বঙ্গপ্রদেশের অঞ্চলের অংশবিশেষ অসমের বরাক উপত্যকা, ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর,টাটানগর,বোকারো,গোড্ডা,দুমকা, ত্রিপুরার মতন জায়গায় ভূমিপুত্র বাঙালীদের মাতৃভাষা বাংলা ভাষা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। জোর করে চাপানো হচ্ছে হিন্দী। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে!! বাঙালীর করের টাকায় বাঙালীর উন্নতি প্রকল্পে ব্যয় না করে বহিরাগত তোষণ করতে রাজ্যে হিন্দী বিশ্ববিদ্যালয়, ঊর্দু এ্যাকাডেমী গঠন করা হচ্ছে!! খোদ কলকাতা সহ বাঙলার বিভিন্ন প্রান্তে মাতৃভাষা বাংলায় কথা বললেই বাঙালীকে বাংলাদেশি, বিদেশী বলে চিহ্নিতকরণ করে চরম হেনস্থা করা হচ্ছে। আমরা জানি মাতৃভাষা আমাদের চিন্তাশক্তির, ভাবনাশক্তির অন্যতম প্রেরক তথা হাতিয়ার। আসলেই হিন্দীসাম্রাজ্যবাদ চাইছে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে অবদমিত করে আমাদের চিন্তাশক্তিকে,ভাবনাশক্তিকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করে রেখে দিয়ে গোটা দেশজুড়ে হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন শোষণকে চিরস্থায়ী করতে। রাজ্য সরকার হোক বা কেন্দ্রীয় সরকার এরা সকলেই হিন্দী সাম্রাজ্যবাদের ক্রীড়ানক। এদের বিরুদ্ধে এর বিরুদ্ধে আপামর বাঙালী জনসাধারণকে ‘আমরা বাঙালী’র আহ্বান, হিন্দী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন গড়ে তুলুন। ধ্বংস হোক হিন্দী সাম্রাজ্যবাদের নীল নকশা। আজকের একুশে ফেব্রুয়ারি শপথ হোক বাঙলার বুকে হিন্দী তোষন মানবো না, বাংলা ছাড়া বলবো না, বাংলা ছাড়া শুনবো না, বাংলা ছাড়া দেখবো না, বাংলা ছাড়া গাইবো না। ভারতের সংবিধান আমাদের মাতৃভাষায় সমস্ত রকম পরিষেবা পাওয়ার যে অধিকার দিয়েছে সেই অধিকার বাস্তবায়নের জন্যই ‘আমরা বাঙাল’র আন্দোলন সকল বাঙালীকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা, ঘরে ঘরে প্রস্তুত হন, বাঙালী জাতিসত্ত্বা জাগিয়ে তুলুন।
ভাবতে কষ্ট হয়, বাংলাদেশে একদিন উর্দুসাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে সেদেশের বাঙালীদের আত্মবলিদানে বাংলা ভাষা-সংস্কৃতির মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা গেলেও ধর্মীয় বেড়াজালের উর্ধ্বে উঠতে না পারার জন্যই আজ আবার বাংলাদেশে মৌলবাদীদের চরম আগ্রাসন। সেই আগ্রাসনের মুখে বিপন্ন সেদেশের বাঙালী জাতিসত্তা! চলছে চরম ঊর্দু আগ্রাসন। এদেশেও হিন্দী সাম্রাজ্যবাদ একইভাবে বাঙালীদের মধ্যে ধর্মমতের জিগিড় উষ্কে জাতির মধ্যে ধর্মের লড়াই বাঁধিয়ে ভারতের বাঙালী জাতিসত্তাকে বিপন্ন করে ধ্বংসপ্রাপ্ত করার চক্রান্তে মেতে উঠেছে। বাঙালী সকল ঐক্যবদ্ধ হোন।
নিবেদক—
উজ্জ্বল ঘোষ
কেন্দ্রীয় প্রচার সচিব, আমরা বাঙালী
২নং বল্লভ স্ট্রীট, কলকাতা-০৪
কোন মন্তব্য নেই